|
newsNet:: menu
|
|
কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প |
|
|
১২ হাজার ৬শ কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ |
| |
| |
|
| |
| |
২২ জুলাই ২০১০ (নিউজনেট)- ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নয়া কৃষিঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি জাতীয় বাজেটের প্রায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং গত অর্থবছরে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর ড. আতিউর রহমান এ নীতিমালা ঘোষণা করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মুরশীদ কুলী খান এবং কৃষিঋণ " স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের জিএম মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। গভর্নর বলেন, কৃষিঋণে গুরুত্ব দেয়ার কারণ হচ্ছে কৃষি উৎপাদন মূল্যস্ফীতি কমাতে দু'ভাবে সহায়তা করে। উৎপাদন বাড়লে পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। অন্যদিকে স্বল্প আয়ের মানুষ যারা কৃষি কর্মের সঙ্গে জড়িত তারা নিজেদের উৎপাদিত পণ্য ভোগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির হাত থেকে বাঁচতে পারে। প্রায় সাড়ে বারো হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দেবে ৫ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা, সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংক " আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেবে ২ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দেবে ৩ হাজার ৪৮ কোটি টাকা এবং বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৫৮২ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। নয়া নীতিমালায় কৃষকদের পারিবারিক উদ্যোগে উৎপাদিত মধু, কমলা, স্ট্রবেরি, পান " আগর চাষ কৃষি ঋণের আ"তায় আনা হয়ে ছে। পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য বাজারজাতকরণে কনট্রাকটিং ফার্মিংয়ের ব্যবস্থা" অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নয়া কৃষিঋণ নীতিমালায়। সেচ কাজের জন্য সৌরশক্তি চালিত যন্ত্র এবং বায়োগ্যাস ব্যবহারে ঋণ দেয়া হবে। গরু " মুরগি পালনের পাশাপাশি এবার মহিষ " হাঁস পালনে" কৃষিঋণ বিতরণ করা হবে। এছাড়া কৃষি ঋণ সহজে বিতরণের জন্য আবেদন ফরম সহজীকরণ, ঋণ প্রদানে সময় কমানো এবং শস্য ঋণের ক্ষেত্রে কোন চার্জ বা প্রসেসিং ফি না নেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। কৃষিঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের হাত থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে এবার কৃষকদের হাতে হাতে অর্থ না দিয়ে একাউন্টের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ করা হবে। গভর্নর জানান, সরকার মাত্র ১০ টাকায় ৮৮ লাখ কৃষকের ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুযোগ করে দিয়েছে। এবার কৃষিঋণ সরাসরি সে একাউন্টে দেয়া হবে। এর ফলে কৃষি ঋণ বিতরণে আগে যে দালালচক্র কৃষকদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে অর্থ হাতিয়ে নিত সেটি করতে পারবে না। নীতিমালায় পাট " পাম চাষের ব্যাপারে" গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। দেশে এখন" বাণিজ্যিকভাবে পাম চাষ না হলে" আর্থিক সহায়তায় যাতে কৃষকরা পাম চাষে আগ্রহী হয় সে জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া ডাল, তেল বীজ, মসলা জাতীয় ফসল, ভুট্টাসহ ইত্যাদি আমদানিকৃত যেসব ফসল আছে সেগুলো উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষিঋণে ভর্তুকি দেয়া হবে। এর ফলে এসব ফসল উৎপাদনে মাত্র ২ শতাংশ সুদে কৃষকরা ঋণ নিতে পারবেন। বাকি ৬ শতাংশ সুদ সরকার বাজেট থেকে ভর্তুকি দেবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যাতে এ ঋণ দিতে আগ্রহী হয় এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের দায় নিয়ে ভর্তুকি পরিশোধ করবে। পরে বাজেটের প্রাপ্ত ভর্তুকি বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে সমন্বয় করা হবে। কৃষি উন্নয়নে সেচ ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সৌর বিদ্যুৎ " সৌর শক্তিনির্ভর সেচ যন্ত্রে ঋণ দেয়ার বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গভর্নর জানান, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ভূউপরিস্থিত পানির অভাব নেই এবং সেখানে বেশিরভাগ জমিতে কৃষকরা মাত্র একটি ফসল উৎপাদন করে। বছরে ২ থেকে ৩টি ফসল উৎপাদন করতে দক্ষিণাঞ্চলে সৌরশক্তি চালিত যন্ত্র ব্যবহার করে ভূউপরিস্থিত পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। কৃষিঋণ কার্যক্রম তদারকির জন্য গতবার ৩ স্তর বিশিষ্ট মনিটরিং কার্যক্রমের সঙ্গে এবার জেলা কৃষিঋণ কমিটিগুলোকে আর" সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গভর্নর জানান, জেলা কৃষিঋণ কমিটিগুলোতে চলতি বছর থেকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়টি নীতিমালায় বলা হয়েছে। এছাড়া কৃষি " কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত আয় উৎসারী কর্মকা-ে জড়িত নারীদের এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ঋণ দেয়ার বিষয়টি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিতে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় জন্য নীতিমালায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। গত অর্থবছরের সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণের মধ্যে অর্থবছর শেষে ৯৭ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ করতে ব্যাংকগুলো সক্ষম হয়েছে বলে জানান ডেপুটি গভর্নর মুরশিদ কুলী খান। তিনি জানান, গত অর্থবছরে মোট ১১ হাজার ১১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। কৃষিঋণ নীতিমালা ঘোষণার আগে ড. আতিউর রহমান সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী " এমডিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি ব্যাংকগুলোকে কৃষিঋণ বিতরণে আর" বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন। |
|
| |
|
|
>> |
ক্ষুদ্র মহিলা উদ্যোক্তারা গ্রুপ ভিত্তিক এসএমই ঋণের আওতায় আসছে .
2010-09-09 |
| |
|
| |
|