আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ, এগিয়ে চলেছে নারীরা | newsnetbd.com
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ, এগিয়ে চলেছে নারীরা
আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ। বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন সংগঠন নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুক্রবার দিবসটি পালন করছে।
‘আমরাই পারি’ এই প্রত্যয় নিয়ে আলো জ্বালিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে বরণ করা হয়েছে। প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন পেশা ও বয়সের নারীদের অংশগ্রহণে নারী দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
রাত ১২টা ১মিনিটে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও মশাল জ্বালানোর মধ্য দিয়ে নারী দিবসের সূচনা করা হয়। নারীর বিরুদ্ধে অন্যায় অবিচার বন্ধ ও তাদের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সবাইকে আরো সোচ্চার হবার আহ্বান জানান বক্তারা।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরিন শারমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালসহ বিশিষ্ট নারী নেত্রীরা এতে যোগ দেন।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।
এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করেছে। ‘পারিবারিক নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমরাই পারি জোট’ দেশের ৪৮টি জেলায় দিবসের প্রথম প্রহরে ‘আঁধার ভাঙার শপথ’ নেয়ার কর্মসূচি পালন করছে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মশাল জ্বালিয়ে আঁধার ভাঙার শপথ নেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল দিবসটি উপলক্ষে বেলা তিনটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করেছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নারীবিষয়ক উপকমিটি বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি।
প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। সারা বিশ্বব্যাপী নারীরা একটি প্রধান উপলক্ষ্য হিসেবে এই দিবস উদযাপন করে থাকেন। বিশ্বের এক এক প্রান্তে নারীদিবস উদযাপনের প্রধান লক্ষ্য এক এক প্রকার হয়। কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা উদযাপনের মুখ্য বিষঢয় হয়, আবার কোথাও মহিলাদের আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠাটি বেশি গুরুত্ব পায়।
এই দিবসটি উদযাপনের পেছনে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। ১৮৫৭ সালেও মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা এবং কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা নেমেছিলেন। ওই মিছিলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন চলে।
১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ ও জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন।
পরে ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন।
১৯১১ সাল থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দিবসটি পালনে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা এগিয়ে আসে। এরপর ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস পালিত হয়।
বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। এরপর ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে পালিত হচ্ছে।