ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারতীয় ঋণে কেনা ব্রডগেজ ইঞ্জিন ও ট্যাঙ্ক ওয়াগন যৌথভাবে উদ্বোধন করেছেন।
ভারতের রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সকালে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ২০টি ট্যাঙ্ক ওয়াগান ও একটি ব্রেক ভ্যানসহ একটি ইঞ্জিনের চলাচল উদ্বোধন করেন।
মন্ত্রী, উপদেষ্টা, দুই দেশের হাইকমিশনার এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা সংক্ষিপ্ত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ উপলক্ষে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনকে ফুল ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে মনোরমভাবে সাজানো হয়।
এর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ আবু তাহের ভারতীয় ঋণে নেওয়া বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এক বিলিয়ন ডলার ঋণের আওতায় রেলওয়ের ১৪ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ৭৩৬ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৬৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে ১১টি প্রকল্পের কাজ চলছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে পুরাতন ইঞ্জিনের স্থলে নতুন ইঞ্জিন সংযোজনের জন্য দুটি চুক্তির আওতায় ভারতের আরআইটিইএস থেকে ২৬টি ব্রডগেজ ইঞ্জিন কিনবে। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ১০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিলি্ল সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যৌথ ইশতেহারের সিদ্ধান্তের আলোকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং রেলওয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ব্রডগেজ ও মিটারগেজ ইঞ্জিন এবং ওয়াগান কেনাসহ বাংলাদেশের জন্য এক বিলিয়ন ডলার ঋণের ঘোষণা করেন। ওই বছরের ৭ আগস্ট বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের এঙ্মি ব্যাংকের মধ্যে স্বাক্ষরিত এ ঋণচুক্তি অনুষ্ঠানে ভারতের তদানীন্তন অর্থমন্ত্রী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি উপস্থিত ছিলেন। সরবরাহ সূচি মোতাবেক চলতি বছরের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে দুটি করে ইঞ্জিন এবং মার্চ-মেতে ট্যাঙ্ক ওয়াগান সরবরাহের কথা থাকলেও রেলওয়ের অনুরোধে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ব্রেকভ্যানসহ দুটি ইঞ্জিন এবং ২০টি ট্যাঙ্ক ওয়াগান বাংলাদেশে পেঁৗছে। ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর আজ থেকে দুটি ইঞ্জিনসহ ২০টি ট্যাঙ্ক ওয়াগান ও একটি ব্রেক ভ্যান চলাচল করবে।
|