 |
তিস্তার পানি নিয়ে বাংলাদেশকে আশ্বাস দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ওপর বেজায় রুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ইতোমধ্যেই তার অসন্তোষের কথা দিলি্লর নেতাদের সামনে তুলেছেন। তবে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং দেশের রাষ্ট্রপতির সম্মানের কথা মাথায় রেখেই মমতা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনই কেন্দ্রীয় সরকারকে এই অসন্তোষের কথা জানাচ্ছেন না।
মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভের কারণ দুটি। প্রথমত, তিস্তার পানি নিয়ে বাংলাদেশের দাবি পূরণ করতে হলে উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করা হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। কিন্তু হাসিনার মুখে হাসি ফোটাতে তিনি উত্তরবঙ্গের মানুষের হাসি কাড়তে চান না। সেচ দফতর মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছে, সিকিম থেকে শিলিগুড়ির মধ্যে তিস্তার দুপ্রান্তে ১২-১৩টি ছোট-বড় পানি বিদ্যুৎ প্রকল্প আছে। বাংলাদেশকে খুশি করা হলে বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে পানিতে টান পড়বে। এমনকি অদূর ভবিষ্যতে শিলিগুড়ি শহরের পানীয় পানিতে টান পড়াও অসম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী মনে করছেন, তিস্তা চুক্তি না-হলে হাসিনাকে যে রাজনৈতিক খেসারত দিতে হবে, চুক্তি করলে সেই ক্ষতি হবে তার।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার আগে প্রণব মুখার্জি তিস্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোনওরকম আলোচনা করেননি। মমতা ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন, দুবছর আগে মনমোহন সিং যা করেছিলেন, এবার প্রণব মুখার্জিও তা-ই করলেন।
দুবছর আগে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে মনমোহনের ঢাকা সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গী হওয়ার কথা ছিল। সেই সফরেই স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল ঐতিহাসিক তিস্তা চুক্তির। কিন্তু সফর শুরুর আগের দিন মমতা বেঁকে বসেন। তার আপত্তির কারণ ছিল রাজ্য সরকারকে অন্ধকারে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছে। তাতে তিস্তার পানির অর্ধেক বাংলাদেশকে দেওয়ার কথা বলা হয়। মুখ্যমন্ত্রী সফর বাতিল করে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে দেননি। ফলে নাক কাটা যায় মনমোহনের।
|