|
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ২০১৩ মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ব্যাংক কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০১৩-এর খসড়ায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের জানান, আইনটি মন্ত্রণালয়ের যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আবারও মন্ত্রিসভায় তোলা হবে।
সচিব বলেন, খসড়া আইনের ২৬(ক) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক অন্য কোনো কোম্পানির শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে ওই কোম্পানির আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি, রিটেইল আর্নিংয়ের মোট পরিমাণের ৫ শতাংশ এবং ওই কোম্পানির আদায়কৃত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। তবে শরিয়াভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে কোনো সংশোধনী আনা হচ্ছে না।
সচিব আরও বলেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি হ্রাস এবং পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে বর্তমানে কোনো ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫ শতাংশের বেশি থাকলে তা আগামী তিন বছর সময়ের মধ্যে কমিয়ে আনতে হবে।
সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ঋণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমঝোতা অনুযায়ী গত সেপ্টেম্বরে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংসদে উত্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার প্রস্তাবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে আইএমএফের অনড় অবস্থানসহ নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ চলতি মার্চ মাসে আইনটি পাস করার ব্যাপারে আইএমএফের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখার পক্ষেও আইএমএফকে রাজি করানো গেছে। ১৯৯১ সালে প্রণীত এই আইন এর আগে তিনবার সংশোধন করা হয়েছে। ২০০৮ সালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে চতুর্থবার সংশোধন করা হলেও বর্তমান সরকার ওই সংশোধনী অধ্যাদেশ আমলে নেয়নি। এবারের সংশোধনীতে আইএমএফের পরামর্শ বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
সচিব বলেন, ব্যাংক শব্দের ব্যবহার করে কেউ যেন প্রতারণা করতে না পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সমবায় সমিতি আইনে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যক্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা করতে পারবে। নির্ধারিত সময়ে জরিমানা আদায় না হলে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা বাড়বে বলে তিনি জানান।
প্রস্তাবিত আইনে খেলাপি ঋণ গ্রহীতার সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঋণ পরিশোধের মেয়াদ পার হওয়ার ছয় মাস পরও ঋণ বা সুদ আদায় না হলে তা খেলাপি ঋণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ আইন পাস হলে ব্যাংকের পরিচালকের মেয়াদ হবে ৩ বছর। এতদিন ব্যাংকগুলো আলাদা আলাদা নিয়ম অনুসরণ করে আসছিল।
এতে একজন পরিচালক পরপর দুই মেয়াদ পরিচালক থাকতে পারবেন। এরপর মাঝখানে বিরতি দিয়ে আবারও পরিচালক হতে পারবেন তিনি। তবে বর্তমানে যারা ২ মেয়াদের বেশি রয়েছেন তারা তাদের মেয়াদ পূর্ণ করবেন।
|