|
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে কংগ্রেসের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইউপিএ থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের ৬ মন্ত্রী আগামী শুক্রবার তাদের পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন।
সন্ধ্যায় সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠক থেকে মমতার কাছে বার্তা আসবে বলে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পরও সেই বার্তা না আসায় মমতা বৈঠকের ইতি ঘোষণা করেন।
মমতা এদিন অভিযোগ করেন যে, ইউপিএ’র বৃহত্তম শরিক হওয়া সত্ত্বেও তাদের সম্মান দেয়া হয়নি। তাদের না জানিয়ে বার বার সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এটা মেনে নেয়া যায় না বলেই দুঃখের সঙ্গে ইউপিএ থেকে বেরিয়ে আাসার সিদ্ধান্ত নিতে তিনি বাধ্য হয়েছেন বলে মমতা জানান।
প্রথম থেকেই খুচরো ব্যবসায় সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) বিরোধিতা করেছেন তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি পুনর্বিবেচনা এবং পরিবারপিছু ভর্তুকি দেয়া সিলিন্ডারের সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ২৪ করার দাবি তুলেছিলেন তিনি। তার দাবি বিবেচনার জন্যই কেন্দ্রীয় সরকারকে গত শনিবার ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। যা শেষ হয়েছে গতকাল বিকালে। পথে নেমে কেন্দ্রের অর্থনৈতিক সংস্কারের বিরোধিতা করতেও ছাড়েনি ইউপিএ’র বৃহত্তম শরিক তৃণমূল কংগ্রেস। তবে বিরোধিতার প্রশ্নে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা স্থির করতে প্রথমে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের বৈঠক ডাকা হলেও পরে পরিস্থিতির ‘গুরুত্ব’ বিবেচনা করে শুধু সাংসদদেরই নয়, রাজ্যের সব মন্ত্রী ও শাখা সংগঠনের প্রধানদেরও বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হরেছিল। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য ও কেন্দ্রের তৃণমূলের সব মন্ত্রীরা। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে দুই পর্যায়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে দিল্লি থেকে কংগ্রেস নেতৃত্বের কোন সদর্থক বার্তা না আসায় শেষপর্যন্ত মমতা খানিকটা হতাশ হয়ে বৈঠক শেষ করে তার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
|