|
ব্রিটেন ইকুয়েডরকে আশ্বাস দিয়েছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্রে জুলিয়ান এ্যাসাঞ্জকে মৃত্যুদন্ড হওয়া বা তাঁর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে তাঁকে সুইডেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া যাবে না বলে দ্বৈত নিশ্চয়তা রয়েছে। ব্রিটেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা এ্যাসাঞ্জকে নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থার এক কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পেতে ইকুয়েডরের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করতে চায় বলেও জানিয়েছে।
ব্রিটেন অস্ট্রেলীয় নাগরিক এ্যাসাঞ্জকে সুইডেনের হাতে তুলে দিতে চায়। সুইডেনে তাঁর বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। গোপন তথ্য ফাঁসকারী ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা এ্যাসাঞ্জ জুন মাসে লন্ডনস্থ ইকুয়েডরিয়ান দূতাবাসে আশ্রয় চান এবং কুইটো তাঁকে আশ্রয় দেয়। এ আশ্রয় দানের পক্ষে যুক্তি হলো, তাকে সুইডেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে এবং মার্কিন সরকারের হাজার হাজার দলিলপত্র ফাঁস করে দেয়ার দায়ে তার মৃত্যুদন্ড হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
হেগ সোমবার পার্লামেন্টে এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন যে, দ্বৈত গ্যারান্টির অর্থ হলো এ্যাসাঞ্জ মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হবেন না বা তার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে না বলে ব্রিটেন ও সুইডেন উভয়েই মনে করলেই কেবল তাকে সুইডেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সুইডেন উভয়েই মানবাধিকার সম্পর্কিত ইউরোপীয় কনভেনশনে সই দিয়েছিল এবং সুইডিশ বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতায় ব্রিটেন সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
তিনি বলেন, সুইডেনের হাতে তুলে দেয়া হলে এ্যাসাঞ্জের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে যে অনুমান করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণই ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, সুইডেন থেকে তৃতীয় কোন দেশে এ্যাসাঞ্জকে পাঠানো হলে তার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে বলে যে অনুমান করা হচ্ছে, তাও ভিত্তিহীন। হেগ বলেন, আমরা এ্যাসাঞ্জ প্রসঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করতে ইকুয়েডর সরকারের প্রতি আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা মনে করি, দুটি দেশের ঐ ইস্যুতে এক কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছনো উচিত।
লন্ডনে পরে ইকুয়েডর সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, হেগের বিবৃতি তাদের আশঙ্কা দূর করতে পারেনি। মুখপাত্র বলেন, এ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া হলে তিনি যে অমানবিক আচরণের মুখোমুখি হবেন, তা নিয়ে সৃষ্ট আশঙ্কা প্রশমিত করতে যুক্তরাজ্য সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, ইকুয়েডরিয়ান সরকার যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে এ মর্মে জোরাল নিশ্চয়তা চায় যে, ব্রাডলি ম্যানিংয়ের ভাগ্যে যা ঘটেছে, এ্যাসাঞ্জকে একই ভাগ্য বরণ করতে হবে না।
|