সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফের সময় শেষ হয়েছে। তবে এসইসির নির্দেশনা অনুসারে মাচেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশেষ প্রণোদনা বাস্তবায়নের কাজ শেষ করতে পারেনি। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের সুদ মওকুফের কার্যক্রম শুরু করলেও মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা স্টক একচেঞ্জও এসইসির কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। গত রবিবার (বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এ্যাসেসিয়েশনের (বিএমবিএ) পক্ষ থেকে তিন মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এখনও মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের আবেদনের বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।
সময় বাড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে বিএমবিএ সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ বলেন, এসইসির নির্দেশ অনুযায়ী অধিকাংশ মার্চেন্ট ব্যাংক সুদ মওকুফের কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে এটা পুরোপুরি পরিপালন করতে সময়ের প্রয়োজন। আর তাই বিএমবিএ’র পক্ষ থেকে তিন মাস সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে।
গত ১০ জুলাই এসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুদ মওকুফের বিষয়টি পরিপালন করে ডিএসই ও সিএসইর ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপালন প্রতিবেদন ১৪ আগস্টের মধ্যে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে বলা হয়। একই সঙ্গে ডিএসই ও সিএসই’র সদস্য ব্রোকারেজ হাউসের উক্ত পরিপালন সংক্রান্ত একটি যৌথ প্রতিবেদন আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে এসইসিতে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়। আর মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকেও সুদ মওকুফ সংক্রান্ত নির্দেশনা পরিপলন করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ১৪ আগস্টের মধ্যে বিএমবিএ’র কাছে পাঠাতে বলা হয়। উক্ত পরিপালন সংক্রান্ত যৌথ প্রতিবেদন ৩০ আগস্টের মধ্যে এসইসিতে জমা দেয়ার জন্য বিএমবিএকে নির্দেশ দেয়া হয়।
এর আগে গত ৩১ জুলাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ৯০০ কোটি টাকা পুনর্অর্থায়ন সহায়তা চায় বিএমবিএ। ওইদিন ‘পুঁজিবাজারে মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জ এবং এর উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে বিএমবিএ’র পক্ষ থেকে এই ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের সবচেয়ে বেশি মার্জিন ঋণ প্রদান করে থাকে।
|