 |
গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে টানা দুইদিন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকার পর বুধবার সকাল থেকে রাজধানী দিল্লির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এখনো বিদ্যুৎহীন রয়েছে ১৯ রাজ্য। টানা ৩ দিনের এ বিদ্যুৎ বিপর্যয়কে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ব্ল্যাকআউট হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
গ্রিড লাইন অচল হয়ে স্মরণকালের ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে ভারত। বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে ভারতের ২০ রাজ্যের ৬০ কোটি মানুষের জীবনযাপন। পরপর ৩টি গ্রিড লাইনের বিপর্যয়ের কারণেই এই দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
প্রধান তিনটি গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় সোমবার ভোরে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে ভারতের উত্তরাঞ্চলের ৮টি রাজ্য। পরে ৬০% এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসলেও মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তা আবারো বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোও বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
কী কারণে প্রধান তিনটি গ্রিডে এ বিপর্যয় তা জানা যায়নি। দেশটির বিদ্যুৎমন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্দে বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহারকেই এর জন্য দায়ী করেছেন।
এদিকে, দিল্লির ৬টি মেট্রো লাইন বন্ধ হয়ে গেছে। তবে কলকাতার মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৩০০ ট্রেনের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটেছে। পাঞ্জাবের রেলস্টেশনে ট্রেন চলছে না। হাজার হাজার যাত্রী স্টেশনে অপেক্ষা করছেন। এটা কোনো ধর্মঘটের চিত্র নয়, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতের বেশিরভাগ ট্রেনই বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় এ সমস্যার তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর ভিভিআইপি এলাকায় জরুরিভিত্তিতে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সরবরাহে হাসপাতাল, ট্রাফিক সিগন্যাল এবং মেট্রোকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। মেট্রো স্টেশনগুলোতে হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়ে আছে। তারা যাতে নিকটবর্তী স্টেশন পর্যন্ত যেতে পারে সে জন্য জরুরি বিদ্যুতের একটা অংশ মেট্রোতে দেয়া হচ্ছে।
ভারতের স্মরণকালের ভয়াবহতম এ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে গ্রিড লাইনে সমস্যার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। আর বিশেষজ্ঞরা অতিমাত্রায় বিদ্যুৎ অপচয়কে ব্ল্যাকআউটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
|