ব্রিটিশ কোম্পানি ‘পোর্ট ইভালুয়েশন ম্যানেজমেন্ট’ (পোর্ট-ইভো) বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলা বন্দর উন্নয়নে একশ’ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। ব্রিটেনের বিদেশ এবং কমনওয়েলথ ও উত্তর আয়ারল্যান্ড বিষয়ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ লন্ডনে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ তাঁর হোটেল স্যুটে বৈঠককালে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেগকে যুক্তরাজ্যের এই বিনিয়োগ প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।
নদী খনন, নতুন হার্বার ক্রেন ক্রয়, কন্টেইনার টার্মিনাল, তেলের ট্যাঙ্ক স্টোরেজ ও পানি শোধনাগার নির্মাণ খাতে ‘পোর্ট ইভো’ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, পোর্ট ইভো বৈঠকে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে তেল ও গ্যাস ভিত্তিক একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব দিয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু ও উন্নয়ন অংশীদার। দেশটি বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রফতানি বাজার।
চিহ্নিত শিল্পগুলোতে বিশেষত সেবা খাতে যুক্তরাজ্যে ‘বিজনেস-বিজনেস ম্যাচ মেকিং’-এর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মোট সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের (এফডিআই) শতকরা ২২ ভাগ যুক্তরাজ্যের।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস, বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উচ্চ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের জন্য ব্রিটিশ উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের মেয়াদকালে বিভিন্ন খাতে বিশেষত কৃষি, দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অর্জন সম্পর্কে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
বিরোধী দল লাগাতার সংসদ বর্জন সত্ত্বেও সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর বৈঠকে অংশগ্রহণ করছে উল্লেখ করে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তাঁর সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ সম্পর্কে উইলিয়াম হেগকে অবহিত করেন।
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁর সরকার বাংলাদেশের বদনাম ঘুচাতে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদীদের কঠোর হাতে দমন করেছে।
এ ক্ষেত্রে তিনি ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম ও বোমা হামলা এবং সাম্প্রদাকি সহিংসতার ঘটনার উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী মানবাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে তাঁর সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্র“তির কথা উল্লেখ করে সন্ত্রাসবাদ দমনে ব্রিটেনের আরও সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন এবং লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. সাইদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
|