পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আগামী দু’মাসের মধ্যে টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পের যৌথ জরিপ শুরু হবে বলে তিনি আশা করছেন। ঢাকা ও দিল্লী এর আগে যৌথ জরিপ চালাতে সম্মত হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনি বাংলাদেশে ভারতীয় সংবাদদাতা সমিতি আয়োজিত ভারত-বাংলা সম্পর্ক শীর্ষক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বলেন, যৌথ জরিপ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, আগামী দু’মাসের মধ্যেই এই জরিপ শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।
ডা. দীপু মনি বলেন, যৌথ জরিপ টিমের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদের একটি তালিকা ইতোমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নামের তালিকার জন্য এখন অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং শিগগিরই এই তালিকা দেয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারত এর আগে অভিন্ন বরাক নদীর ওপর একটি হাইডোইলেট্রিক বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়। এতে বাংলাদেশে ব্যাপক উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ প্রস্তাবিত এই বাঁধ নির্মাণ করা হলে এতে কি ধরনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তা নিরূপণ করার জন্য একটি যৌথ জরিপ চালানোর দাবি জানায়। বাঁধটি নির্মাণ করা হলে ভাটিতে বাংলাদেশে এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং অঞ্চলে পরিবেশগত হুমকি সৃষ্টি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন।
অভিন্ন তিস্তা নদী সংক্রান্ত চুক্তির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মনি বলেন, দু’টি দেশই এর আগে চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত হয়েছিল এবং আমরা এখন অপেক্ষা করছি, ভারত তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় এই সমস্যার সমাধান করবে।
তিনি বলেন, তিস্তা ইস্যুতে আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। আমরা চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে ছিটমহল ও অপদখলীয় জমি বিনিময় সম্পর্কে দীপু মনি বলেন, গতবছর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর ঢাকা সফরকালে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ভারতীয় পার্লামেন্ট এই চুক্তি অনুমোদন করলেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতীয় পার্লামেন্টের পরবর্তী যেকোন অধিবেশনে চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছি.... আপনারা জানেন এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয় দলের ঐকমত্য আছে।’
তিনি বলেন, ঢাকা সীমান্তে কোন মৃত্যু দেখতে চায় না, যদিও ভারত সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা কমিয়েছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোন মূল্যে প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, নিজেদের অর্থায়নে সেতু নির্মাণের উদ্যোগের পাশাপাশি দাতাদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অতীতের মতোই জাতির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উভয় প্রচেষ্টাই অব্যাহত থাকবে, কিন্তু এটা নিশ্চিত সেতু নির্মিত হবে।’
এমন এক সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন যখন মন্ত্রিসভা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশীদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহের জন্য দু’টি ব্যাংক হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।
মিয়ানমারের জাতিগত রোহিঙ্গা মুসলিমদের অন্য কোন দেশে প্রত্যাবাসন সম্পর্কে সেদেশের প্রেসিডেন্ট থেইন সিন-এর বক্তব্যকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে অভিহিত করেন।
|