রাজনৈতিক কারণে কয়লা উত্তোলন পদ্ধতির বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না—এমন মন্তব্য করে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পক্ষে মত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য জনমত গড়ে তোলার প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য উঠে আসে।
আর অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাটির নিচে কয়লার মজুদ ভবিষ্যতের জন্য না রেখে এখনই উত্তোলন করা প্রয়োজন। সরকারের অবিলম্বে জাতীয় কয়লানীতি চূড়ান্ত করা উচিত বলেও মনে করেন তারা।
সূত্র মতে, দেশে এখন পর্যন্ত পাঁচটি কয়লা খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। জামালগঞ্জ, বড়পুকুরিয়া, ফুলবাড়ি, খালাশপীর ও দীঘিপাড়ায় আবিষ্কৃত এসব কয়লাখনির সবগুলোই উত্তরাঞ্চলে। কিন্তু অধিকাংশ কয়লাসম্পদই অনুত্তোলিত। আবিষ্কৃত এসব খনির মধ্যে এখন শুধু বড়পুকুরিয়াতেই কাজ হচ্ছে। সেখানে স্থাপিত হওয়া কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়মিত বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘কালো সোনা’ হিসেবে পরিচিত ৩শ’ কোটি ঘনফুটের মতো কয়লার মজুদ দেশে রয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে তুলনা করলে তা প্রায় ৬৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সমপরিমাণ দাঁড়ায়।
বলা হয়, এই মজুদ দিয়ে দেশের ৫০ বছরের জ্বালানি চাহিদা মেটানো সম্ভব। কিন্তু কয়লা উত্তোলন পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে এর সমাধান আসছে না।
বুধবার ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার’ এর সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বললেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উন্মুক্ত পদ্ধতিই লাভজনক। তবে খনিসংলগ্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর পুনর্বাসনের বিষয়টিকে এক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।
তাদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে ব্যবসায়ী নেতারা বলেছেন, দেশে স্বল্পমূল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে এখনই সরকারের কয়লা উত্তোলন পদ্ধতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
সেমিনারের প্রধান অতিথি জ্বালানি উপদেষ্টা মনে করেন, সব কিছু বিবেচনায় এনেই কয়লা উত্তোলন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিভাবে কয়লা উত্তোলন করা যায় সে বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিতে বিশেজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানান জ্বালানি উপদেষ্টা।
|