রিপিট পাবলিক অফারের (আরপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলন করা ৩১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)। প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত জাহাজ ক্রয়ের প্রক্রিয়াটি সময় সাপেক্ষ ও দীর্ঘ মেয়াদী হওয়ায় কোম্পানিটি তা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট (এফডিআর) করেছে বলে কোম্পানি সচিব গোলাম হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাক্ষরিত চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী এই টাকা ৭৫ শতাংশ সরকারী ও ২৫ শতাংশ বেসরকারী ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে। আরপিও’র অর্থ কোন্ খাতে ব্যয় করা হবে সেটা কখন থেকে এসইসিকে জানানো হবে। সেটির স্পষ্টকরণে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় এতদিন কমিশনকে জানানো হয়নি বলেও কোম্পানিটি স্বীকার করেছে।
এদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি গত অর্থবছরে শেয়ারধারীদের কোন লভ্যাংশ না দেয়ায় এ ক্যাটাগরি থেকে জেড ক্যাটাগরিতে নামানো হয়েছে। শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ না দেয়ায় কোম্পানিটির গ্রেড পরিবর্তন ও রিপিট আইপিও’র অর্থ কোন্ খাতে ব্যয় করেছে তা জানতে চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। শুধু তাই নয়, কোম্পানিটির উর্ধতন কর্মকর্তাদের ডেকেও পাঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। গত সোমবার বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) আবস্থান ও তার কার্যক্রম নিয়ে বৈঠক করে এসইসি। বিকেল তিনটায় এসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৮ জুন বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো চিঠিতে ওই বৈঠকে বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়াও বিএসসি’র চিফ ফাইন্যানসিয়াল অফিসার (সিএফও) ও কোম্পানি সচিবকে যোগদানের নির্দেশনা দেয়া হয়।
জানা গেছে, গত ৩০ জুন ২০১১ সালের সমাপ্ত অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা দেয়নি। বিধায় প্রতিষ্ঠানটির ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হয়েছে। বিএসসিকে ‘এ’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনা হয়। এর আগে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও পরের বছরগুলোতে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনি। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা দিলেও ২০০৯ ও ২০১১ সালের অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের জন্য কোন ঘোষণা দেয়নি। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি সাম্প্রতিক কর্মকা- জানতে চায় এসইসি।
কোম্পানিটির রিপিট আইপিও’র প্রসপ্রেক্টাসে বলা হয়েছিল, সরকারের রূপকল্প ২০২১-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিএসসি আরও ২১টি জাহাজ কিনবে। সম্প্রতি বিএসসি’র বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ কথা জানানো হয়। কিন্তু বিএসসি’র কোম্পানি সচিব স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, রিপিট আইপিও’র মাধ্যমে পাঠানো তহবিল সম্পূর্ণ খরচ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিমাসে সমাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদনের মাধ্যমে কমিশনকে জানানোর শর্ত আছে। বিএসসি জাহাজ কেনার জন্য অর্থ বাজার থেকে তুলেছে সেটি প্রসপেক্টাসে উল্লেখ আছে। কোম্পানিটি বলেছে, জাহাজ কেনা সময়সাপেক্ষ ও দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজটি চূড়ান্ত প্রক্রিয়াধীন আছে। সব কাজ শেষ হওয়ার পরেই এই কাজে অর্থ ব্যয় শুরু হবে। এতদিন অর্থ ব্যয় শুরু না হওয়ায় এসইসিকে আরপিও’র অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এর আগে বিএসসি মনে করেছিল, ব্যয় শুরু হওয়ার পর থেকে তা এসইসিকে জানানোর নিয়ম। আগামীতে সব তথ্য নিয়মানুযায়ী এসইসিকে জানানো হবে বলে কোম্পানিটি স্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে তালিকাভ্ক্তু কোম্পানি গত অর্থবছরে ১০৮ কোটি টাকা লোকসান দেখিয়েছে। কোম্পানিটির অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন যথাক্রমে ৪০০ কোটি টাকা ও ৮২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ১০০ টাকা ফেস ভ্যালুর এ কোম্পানির মার্কেট লট ৫টি শেয়ারে। কোম্পানির মোট ৮২ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ারের মধ্যে ২১.১৫ শতাংশ সরকার, ১০.১৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং ৬৮.৭০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।
|