|
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি একশ’ ডলারের নিচে নেমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তেল উৎপাদনের মোট সর্বসম্মত কোটা ছাড়িয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ইরান শনিবার ওপেকের একটি বিশেষ বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ইরানের সকল গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানির ওপর বর্তমানে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। রোববার থেকে এসব নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর হতে যাচ্ছে।
ইরানের তেলমন্ত্রী রোস্তম কাসেমীর উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক বার্তা ওয়েবসাইট শানায় বলা হয়, ‘তেলের মূল্য অযৌক্তিক হয়ে পড়ায় আমরা মহাসচিবকে একটি বিশেষ বৈঠক ডাকতে বলেছি।’
তিনি বলেন, গত ১৪ জুলাই ওপেকের সর্বশেষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, ওপেকের মোট উৎপাদন হবে ৩ কোটি ব্যারেল, কিন্তু সদস্যদের মোট উৎপাদন দৈনিক ৩ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, ওপেক সম্মত হয়েছিল যে, তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি একশ’ ডলারের নিচে নামলে তা একটি সঙ্কটজনক স্তরে পৌঁছেছে বলে বিবেচিত হবে। সেজন্য আগামী ডিসেম্বরে ওপেকের নির্ধারিত বৈঠকের আগে একটি বিশেষ বৈঠক ডাকা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি নিষেধাজ্ঞা পূর্ণরূপে কার্যকর হবে। এ নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী বিশ্বের যে কোনো স্থানে ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারের অধিকাংশ বীমা ব্লক করা হবে। ইরান আশা করেছিল এর ফলে তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। ফলে ইরানি তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞার ফল ইতিবাচক হবে না, কিন্তু ওপেক সদস্য সৌদি আরব ও কুয়েতের উৎপাদন বৃদ্ধি, ইউরোপে ঋণ সংকট ও চীনের মন্থর প্রবৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী।
ইরান এবং মার্কিন বিরোধী অপর ওপেক সদস্য ভেনিজুয়েলা মিলে তেলের মূল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওপেকের উৎপাদন কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তেলের মূল্য ইস্যুটি শীর্ষ তেল উৎপাদক দেশ সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এ দু’টি দেশই ওপেকের মহাসচিব হওয়ার জন্য চেষ্টা করছে।
এ বছর সিরিয়ার আবদুল্লাহ আল বাদরি ওপেকের মহাসচিবের পদ থেকে ইস্তফা দেন। ইকুয়েডরও এ পদের জন্য তাদের প্রার্থী দিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় ওপেকের নিয়মিত বৈঠকে মহাসচিব নির্বাচনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।
|