|
গত এক বছরে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জের সাধারণ সূচক কমেছে ১৫৪৫ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন কমেছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারের উদ্যোগ চলতি অর্থবছরে তেমন কাজে আসেনি।
চলতি অর্থবছরে সরকারের নানা ইতিবাচক ঘোষণাতেও পুঁজিবাজার ছেড়ে গেছে প্রায় সাত লাখ বিনিয়োগকারী। ঋণ ও ক্ষতির জালে আটকা পড়েছে অবশিষ্টরা।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ২০১১-১২ অর্থবছরের শেষ দিন ২৮ জুন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে মাত্র ২৯৯ কোটি টাকার। অথচ গত অর্থবছরের ৩০ জুন শেষ কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৯৫৪ কোটি টাকার। অর্থাৎ তিনগুণেরও বেশি ওইদিন লেনদেন হয়েছিল। এর বিপরীতে ২০০৯-১০ অর্থবছরের শেষ দিনে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১৮৮৭ কোটি টাকা। গত বৃহস্পতিবারের লেনদেনের চেয়ে যা ছয়গুণ বেশি।
একইভাবে সদ্য সমাপ্ত হতে চলা অর্থবছরের শেষ কর্মদিবস গত বৃহস্পতিবার ডিএসইর সাধারণ সূচক দাঁড়ায় ৪৫৭২ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে। আগের বছরের শেষ দিন ৩০ জুন ডিএসইতে সাধারণ সূচক ছিল ৬১১৭ পয়েন্টে। নতুন কোম্পানি বাজারে আসা, রাইট শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা বাড়লেও বাজারের সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হয়নি। এর আগের ২০১০ সালের ৩০ জুন শেষ কার্যদিবসের ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল ৬ হাজার ১৫৩ পয়েন্ট। ওই সময়ে ব্যাপক হারে সূচকেও ওঠানামা থাকায় খুব বেশি সূচকের পরিবর্তন হয়নি। এ ছাড়া ওই সময়ে বাজারে ঊর্ধমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত বিনিয়োগে হু হু করে বেড়েছে বাজার।
সূচক ও লেনদেনের মতো ২০১১-১২ অর্থবছরে ডিএসইতে বাজার মূলধনও কমেছে গত বৃহস্পতিবার ডিএসইতে বাজার মূলধন ২ লাখ ৪৯ হাজার কোটি ছিল। আগের অর্থবছরের শেষ দিন ৩০ জুন ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি। ২০০৯-১০ অর্থবছরের কোম্পানির শেয়ার কমলেও দর ভাল থাকায় একই দিনে ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলসহ বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও বাজারে সূচকের পরিবর্তন হয়নি। হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ড গঠনেও বাজারে তেমন প্রভাব ফেলেনি। নিত্যদিনের সূচকের পতনে বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিনই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। তাদের বিক্ষোভে মতিঝিল-রামকৃষ্ণ মিশন রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ ছিল অনেক দিন।
বিনিয়োগকারীদের আন্দোলনে বাজারকে স্থিতিশীল করতে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ এ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) পুনর্গঠন করা হয়। বিনিয়োগকারীদের আন্দোলন ও বাজার সংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের নবেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে জরুরী বৈঠক করে বাজারকে সার্পোট দেয়ার জন্য বিশেষ স্কিম ঘোষণা করেন। এরই অংশ হিসেবে গত ২১ নবেম্বর এসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন এসইসির ২ সিসি ধারা অনুযায়ী কোম্পানি উদ্যেক্তা পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ অথবা সম্মিলিতভাবে পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ ধারণের ঘোষণা করেন। এতে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফেরে।
|