|
ভারতে চলতি মাসে পেট্রোলের দাম দ্বিতীয়বারের মতো কমানো হয়েছে। গত ২৩ মে এক ধাক্কায় ১১ শতাংশ বা লিটার প্রতি প্রায় সাড়ে ৭ রুপি বেড়েছিল। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি)সহ সব রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা বৃহস্পতিবার লিটার পিছু পেট্রোলের দাম আর এক দফা কমানোর কথা ঘোষণা করে।
এর ফলে কলকাতাসহ গোটা রাজ্যে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ৩.০৭ রুপি কমে দাঁড়াল ৭২.৭৪ রুপি। এই নিয়ে এ মাসে দু’দফায় মোট দাম কমলো ৫.১৪ পয়সা।
তেল সংস্থাগুলির সূত্রে জানানো হয়েছে, বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী। তাই রুপির দাম কমলেও তেলের দাম কমাতে সমস্যা নেই। যদিও প্রশাসনের একটি অংশের বক্তব্য, টাকার দাম তলানিতে ঠেকেছে এই যুক্তি দেখিয়ে নিজেদের অসুবিধার কথা জানিয়েছিল সংস্থাগুলো।
তেল সংস্থাগুলো জানায়, ইউরোপীয় সঙ্কটের ফলে আগামী দিনে তেলের চাহিদা আরও কমতে পারে, এই আশঙ্কায় বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম নিম্নমুখী। বিশ্ব বাজারে এর গড় দর এখন ব্যারেলে (এক ব্যারেল= ১৫৮.৯ লিটার) ১০৬.৯৩ ডলার। কিছু দিন আগেও যা ওঠা-নামা করছিল ১৩০ ডলারের কাছাকাছি। তাই অশোধিত তেলের দাম কমার সঙ্গে তাল রেখে পেট্রোলের দাম কমানোর দাবি তুলছিল বিভিন্ন মহল। কিন্তু বাদ সাধছিল রুপির লাগাতার পতন।
তেল সংস্থাগুলিও জানিয়েছিল, যেভাবে বিশ্ব বাজারে ডলারের তুলনায় রুপির দাম পড়ছে, তাতে অশোধিত তেলের দাম কমায় যে লাভ হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার কিছুটা হলেও পটবদল হয়। অনেকেই মনে করছেন, এ দিন এক লাফে রুপির দাম ৩৫ পয়সা বেড়েছে, তাই পেট্রোলের দাম কমানো সম্ভব হয়েছে।
তবে আইওসি বলছে, গত এপ্রিল থেকে তাদের ১০.৫ বিলিয়ন রুপি লোকসান হয়েছে।
এদিকে প্রধান বিরোধী দল ভারতীয জনতা পার্টি (বিজেপি) বলেছে, পর পর দু’দফায় কমানো হলেও দাম যথেষ্ট কমেনি।
দলের মুখপাত্র তরুণ বিজয় বলেন, ‘সরকারের কিছুটা সততা দেখিয়ে পুরো মূল্যবৃদ্ধিটাই কমিয়ে দেয়া উচিত। আন্তর্জাতিক দাম এই আন্তরিকতাহীন দাম কমানোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।’
এদিকে ইউপিএ জোটের শরিক তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাম কমানোকে ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’ বলেই মনে করছেন। তার বক্তব্য, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এই দাম কমানো হয়েছে। ভোটের পরে আবার দাম বাড়বে।’তিনি বলেন, ‘দাম অন্তত ১০ থেকে ৩০ রুপি কমানো উচিত ছিল।’
|