২ শতাংশ শেয়ার ধারণ না করায় ৩৫৬ পরিচালক পদ হারালেন | newsnetbd.com
২ শতাংশ শেয়ার ধারণ না করায় ৩৫৬ পরিচালক পদ হারালেন
সিকিউরিটিজ এ্যান্ড একচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশনা মেনে ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ না করায় আইন অনুযায়ী পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ৩৫৬ উদ্যোক্তা পরিচালক তাঁদের পদ হারালেন। নির্দেশনা মেনে শেয়ার কেনার সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়া এবং আদালতের রায়ের পরে এসব উদ্যোক্তা পরিচালকের শেয়ার ধারণের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব এসইসি আমলে না নেয়ায় তাদের পদ ছেড়ে দিতে হচ্ছে।
আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যর্থ এসব পরিচালকের তালিকা কমিশনের পাঠাতে কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজারে দুই স্টক একচেঞ্জকেও একই সময়ের মধ্যে এই সংক্রান্ত সব তথ্য কমিশনে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়। এতে গত সাত মাস ধরে পুঁজিবাজারে চলমান বহুল আলোচিত ইস্যুটির সমাপ্তি ঘটল। মঙ্গলবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে কমিশন মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মোট ৩৫৬ জন পরিচালক নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী শেয়ার ধারণ করেননি। তবে মোট ১৩৫ কোম্পানির ৯৭৪ জন উদ্যোক্তা পরিচালক এসইসির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ব্যক্তিগতভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণ করেছেন।
মঙ্গলবার কমিশন সভায় পরিচালকদের আবেদন বিবেচনা না করা, সকল কোম্পানি ও দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যর্থ পরিচালকদের তালিকা কমিশনে দাখিল এবং বিএপিএলসিকে এ ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গত ২২ নবেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ এবং এককভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার নির্দেশ প্রদান করে। উক্ত প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করে কতিপয় পরিচালক হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালত বিস্তারিত শুনানি শেষে গত ২১ মে রিটগুলো খারিজ করে দেন। ফলে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত কমিশনের নির্দেশনা বহাল রয়েছে। তাছাড়া কমিশনের সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ অর্ডিনেন্স, ১৯৬৯-এর ২সিসি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে কতিপয় পরিচালকের করা সকল রিট গত ২১ জুন মহামান্য আদালতের আরেকটি বেঞ্চ খারিজ করে দিয়েছে। রায়ের ভিত্তিতেই কমিশন এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এই পর্যন্ত যাঁরা ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত সময় বর্ধনের জন্য আবেদন করেছেন তাঁদের আবেদন কমিশন বিবেচনা করেনি। এছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানি সমূহকে কমিশন এই মর্মে পত্র প্রদান করবে যে, সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশনের উল্লিখিত নোটিফিকেশন পরিপালন করতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে যে সকল পরিচালকের পদ শূন্য হয়েছে তাদের তালিকা আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে কমিশনে দাখিল করতে হবে।
এর আগে উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার কেনার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদনে সাড়া দেয়নি এসইসি। গত বুধবার এসইসির পক্ষ থেকে শেয়ার কেনার সময়সীমার বাড়ানোর বিষয়ে স্পষ্টীকরণ ব্যাখ্যা দেয়া হয়।