|
চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দিনের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে সৃষ্ট দুর্যোগে পাহাড় ধ্বস আর বন্যায় অন্তত ৬২ নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম শহরের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। গতকাল বিকেলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ গত রাতে ঢাকা ও সিলেটের সঙ্গে চট্টগ্রামের ট্রেন যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়।
বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে নিহত ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় পাহাড় ধসে বসতবাড়ির নিচে চাপা পড়ে একই পরিবারের চারজনসহ ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম শহর ও আশপাশের এলাকায় পাহাড় ধস, দেয়াল চাপা ও বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে আরও অন্তত ২০ জন মারা গেছেন।
বান্দরবানে জেলার লামা উপজেলায় আজ সকাল পর্যন্ত ২৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা সবাই পাহাড় ধসে নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, আরও অনেকে ধসে পড়া পাহাড়ের মাটির নিচে চাপা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের ৩০ কিলোমিটার দূরে বাইশারি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মনিরুল হক বলেন, দক্ষিণ বাইশরি গ্রামে গতকাল রাতে পাহাড়ি ঢলে এক পরিবারের ছয়জনসহ আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিবারের নিহতরা হলেন রুহুল আমিন (৪২), তাঁর স্ত্রী সালেহা বেগম (৩২), ছেলে শফিউল আলম (৭) ও মোরশেদুল ইসলাম (৩), মেয়ে পারভীন আক্তার (৫), শ্বাশুড়ি হাসিনা বেগম (৭০)। আজ সকালে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন লাশগুলো উদ্ধার করে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাগানগোনা এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় দুজন মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালি গ্রামের সোলায়মান (৩০) এবং অন্যজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পাহাড়ি ঢলে উপজেলার ৫০০ ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে এবং তিন থেকে পাঁচ হাজার বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকার দুই তলা স্কুল-কলেজগুলো দুর্গতদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।
উখিয়ায় হলদিয়াপালং ও রত্নাপালং ইউনিয়নে গতকাল মঙ্গলবার রাতে পৃথক পাহাড় ধসে বসতঘরের মাটির নিচে চাপা পড়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্পের সদস্যরা তাঁদের লাশ উদ্ধার করেছেন।
ইউনিয়নের পাতাবাড়ি বরইতলী গ্রামে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের চারজনসহ মোট সাতজনের মৃত্যু হয়। রত্নাপালং ইউনিয়নে রাত দেড়টার দিকে ইউনিয়নের ভালুকিয়া বিজিবি-ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় পাহাড় ধসে মা-মেয়েসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশে হাটহাজারীতে দেয়াল চাপায় দুজন, বাঁশখালীতে পাহাড় ধসে তিনজন, নগরের আকবর শাহ মাজার এলাকায় পাহাড় ধসে তিনজন, বিশ্বকলোনিতে পাহাড় ধসে পাঁচজন, উত্তর পাহাড়তলীতে পাহাড় ধসে দুজন এবং আমবাগানে দেয়াল চাপায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়।
সরে যাচ্ছে পানি: পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল রাত সাতটার পর থেকে চট্টগ্রাম শহরে আর বৃষ্টি হচ্ছে না। অনেক এলাকায় থেকে পানি সরে গেছে। তবে নিচু এলাকায় পানি রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজারকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক-সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।
|