|
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) এবং ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) আজকালের মধ্যে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেবে। বিদ্যুত বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্রাহক পর্যায়ে ৫০ থেকে ৫৬ ভাগ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।
বর্তমান সরকার এ পর্যন্ত পাঁচ দফায় বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে।
বিইআরসি সূত্র জানায়, বিদ্যুতের পাইকারি দাম ৫০ ভাগ বৃদ্ধির জন্য পিডিবি একটি প্রস্তাব দেয় গত ৬ জুন। কিন্তু পাইকারি দাম বৃদ্ধি করার পর বিতরণ কোম্পানি লোকসান করে এজন্য একই সঙ্গে বিইআরসি পাইকারি এবং খুচরা দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়। বিইআরসি থেকে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিতে বলা হয়।
রবিবার বিকেলে জমা দেয়া প্রস্তাবে ডিপিডিসি ৫৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ডেসকো ৫০ ভাগ এবং ওয়েস্টজোন তাদের প্রস্তাবে ৫৬ দশমিক ৮৬ ভাগ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।
পিডিবি সূত্র জানায়, আজকালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিতরণ এলাকার গ্রাহকদের জন্য ৫৫ থেকে ৫৭ ভাগ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দেবে।
সর্বশেষ ২৯ মার্চ দাম বাড়ানোর ফলে বর্তমানে বিদ্যুতের পাইকারি গড় দর রয়েছে ৪ টাকা ০২ পয়সা। ওই সময়ে পিডিবি থেকে বলা হয়েছিল, মার্চে তাদের প্রতি ইউনিটের উৎপাদন খরচ পড়েছে ৫ দশমিক ৭০ টাকা। দাম বৃদ্ধির জুনের প্রস্তাবে পিডিবি বলছে, এখন গড় সরবরাহ ব্যয় ছয় টাকা ৮৭ পয়সা।
২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খুচরা ও পাইকারি উভয় প্রকার দাম বৃদ্ধি করা হয়। এরপর একই বছরের ডিসেম্বর মাসে পাইকারি দর ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ দশমিক ২৭ টাকা করা হয়। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ৭ দশমিক ০৯ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৪ টাকা করা হয় এবং সর্বশেষ মার্চে জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের কথা বলে পাইকারি দাম আরও আটাশ পয়সা বাড়িয়ে ৪ দশমিক ০২ টাকা করা হয়।
গ্রাহক পর্যায়ে ২০১০ সালের মার্চে শুধু আরইবির জন্য বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়। পরের বছর ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে পাঁচ শতাংশ দাম বাড়ে গ্রাহক পর্যায়ে। একই বছর ডিসেম্বরে আবারও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে গ্রাহক পর্যায়ে ১৪ ভাগ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়। মার্চ এবং ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় বিদ্যুতের এ দাম বৃদ্ধি করা হয়।
|