পুঁজিবাজারের অব্যাহত দরপতনের অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্ষুব্ধ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে পতনের কারণে বিক্ষোভ, রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ জানানোর পরে বৃহস্পতিবার কাফনের প্রতীকী কাপড় মাথায় বেঁধে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
বৃহস্পতিবার সকালে নেতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হওয়ায় আগের ধারাবাহিকতায় রাস্তায় নামে এসব বিনিয়োগকারী। রাস্তায় নেমে তারা বাজারকে স্থিতিশীল করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিনিয়োগকারীদের অভিনব প্রতিবাদ দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে। পরে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ কর্মসূচী সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। আগামী রবিবার বাজার পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক না হয় তবে পুনরায় তারা বিক্ষোভ করবেন বলে জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে শতাধিক বিনিয়োগকারী ডিএসইর সামনের রাস্তা অবরোধ করলে পুলিশ তাতে বাধা দেয় এবং এক সময় রাস্তা অবরোধ তুলে দেয়া হয়। বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন ধরনের লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ডিএসইর সামনে অবস্থান করেন। আর কত কিংবা প্রতিবাদের ভাষা নেই শয়তানরা নিপাত যাক, বিনিয়োগকারীরা মুক্তি পাক ইত্যাদি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড বিনিয়োগকারীদের হাতে শোভা পাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আন্দোলন চলাকালীন ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী কর্মস্থলে প্রবেশ করতে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের বাধার সম্মুখীন হন। পরে তিনি ডিএসইর সিকিউরিটি গার্ডের সহায়তায় অফিসে প্রবেশ করেন।
এর আগে বুধবার দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীরা দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধের দাবি জানায়। সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের লেনদেনে অংশ না নেয়ার আহ্বানও জানানো হয়। বিক্ষুব্ধরা বর্তমান বাজার পতনের পেছনে বিনিয়োগকারীরা এসইসি এবং ডিএসইকে দায়ী করেন। পাশাপাশি তাঁরা এসইসির চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হোসেন এবং ডিএসইর প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমানের পদত্যাগ দাবি করেন। বিনিয়োগকারীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু পদক্ষেপ কামনা করেন। আর তা না হলে অতীতের মতো আরও বিনিয়োগকারী আত্মাহুতি দিতে বাধ্য হবে বলে সমাবেশ থেকে হুমকি দেয়া হয়।
|