হিমালয়ের সিয়াচেন হিমবাহ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছে ভারত ও পাকিস্তান। গতকাল সোমবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি শহরে এ আলোচনা শুরু হয়। দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
ভারত ১৯৮৪ সালে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচেন হিমবাহের বেশির ভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। কাশ্মীরে জঙ্গি তৎপর এলাকার অংশবিশেষের প্রতিরক্ষা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর তৎপরতা পর্যবেক্ষণের জন্য এই হিমবাহকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান বিবেচনা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। পাকিস্তানি সেনারা বেশ কয়েকবার এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল হিমবাহ থেকে তুষার ধসে পাকিস্তানের একটি সেনা ঘাঁটিতে ১৪০ জন মারা যান। এর মধ্যে ১২৯ জনই ছিলেন পাকিস্তানি সেনাসদস্য। এই দুর্ঘটনার পর পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আশফাক কায়ানি সিয়াচেনকে অসামরিক অঞ্চল ঘোষণার আহ্বান জানান ভারতের প্রতি। এ ব্যাপারে আলোচনারও আহ্বান জানান তিনি। উল্লেখ্য, সিয়াচেন নিয়ে আগের ১২টি আলোচনাই অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
গতকাল সিয়াচেন নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ত্রয়োদশতম আলোচনা শুরু হয়। এই আলোচনায় ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রতিরক্ষা সচিব শশীকান্ত শর্মা। আর পাকিস্তানি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নার্গিস শেঠি। আলোচনার বিষয়বস্তুর ব্যাপারে উভয় পক্ষই বেশ গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সোহাইল আফতাব আলোচনা শুরুর আগে বলেন, 'দুই পক্ষের মধ্যে সিয়াচেন ও প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হবে।' আজ মঙ্গলবার যৌথ বিবৃতিতে আলোচনার ব্যাপারে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এই আলোচনার মাধ্যমে বড় কোনো সাফল্য আশা করা ঠিক হবে না বলে গত সপ্তাহে হুঁশিয়ারি দেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি।
|