|
গত তিন বছরে সারাদেশে প্রায় ২২ লাখ গ্রাহককে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ লোক নতুনভাবে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এসেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৫৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এসেছে। যা ২০০৯ সালে ছিলো মাত্র ৪৭ শতাংশ। ২০১২ সাল পর্যন্ত ৩৩শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হয়েছে।
জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত কর্তৃক উপস্থাপিত আগামী (২০১২-১৩) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্নয়নে পথনকশা : দ্বিতীয় হালচিত্র’ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের চেয়ে বর্তমানে লোডশেডিংয়ের মাত্রা দৈনিক গড়ে প্রায় ৭শ’ মেগাওয়াট কমেছে। ২০১০ সালে লোডশেডিং ছিল দৈনিক গড়ে ১২শ’ থেকে ১৫শ’ মেগাওয়াট। বর্তমানে তা কমে এসে ৫শ’ থেকে ৮শ’ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।
২০১০ সালের এপ্রিল থেকে ২০১১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পায় ২শ’ মেগাওয়াট এবং সে সময় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ৮শ’ মেগাওয়াট। ২০১১ সালের এপ্রিল থেকে ২০১২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছিল ১ হাজার মেগাওয়াট এবং সে সময় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছিল ২ হাজার মেগাওয়াট। এর ফলে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। তবে এই সময়ে বিদ্যুতের সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোক্তা পর্যায়ে লোডশেডিং হ্রাসের সুবিধা আনুপাতিকভাবে দৃশ্যমান হয়নি।
অপর দিকে ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে শিল্পখাতে সংযোগ ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৮৩টি এবং সেচ সংযোগ ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৬০টি। যা ২০১২ সালে তা বেড়ে যথাক্রমে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৮৮টি এবং ২ লাখ ৯০ হাজার ৩শ’টিতে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ গত এক বছরে শিল্পখাতে ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কৃষিখাতে ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ সংযোগ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ২২০ কিলোওয়াট আওয়ার। যা ৩ বছরে বেড়ে ২৬৫ কিলোওয়াটে উন্নীত হয়েছে।
২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলে ৯ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে যা মোট বাজেটের ৫ শতাংশ। গত ২০১১-১২ অর্থ বছরের চেয়ে এবার ১ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ২৯৪ মেগাওয়াট নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি খাতে মোট ৫২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০১৩-১৪ সালের মধ্যে এ কেন্দ্রগুলো বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করতে পারবে বলে আশা করা যায়।
এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি খাতে ৫ হাজার ৬শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরো ৩০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য কার্যাদেশ প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এগুলো ২০১৫-১৬ সাল নাগাদ ঊৎপাদনে আসবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালের ফেব্র“য়ারি নাগাদ গ্যাসভিত্তিক পুরাতন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত করে আরো ৭শ’ থেকে ৮শ’ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ ছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ২০১৩ সালে ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। ২০১৬ সাল নাগাদ যৌথ বিনিয়োগে ২ হাজার ৯৩৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
২০৩০ সালের মধ্যে নিউক্লিয়ার এনার্জি থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, এ যাবৎ সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রায় ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। ২০২০ সাল নাগাদ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে বলে আশা করা যায়। পাশাপাশি শতভাগ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে ৫৬ হাজার ৪১৫টি প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে।
|