|
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গত একমাসে প্রায় ৩০টি গার্মেন্টস পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ৫০/৬০টি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানে ছিনতাই ও ডাকাতি হয়েছে এবং শিকার হয়েছেন ৮ চালক। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে পণ্য পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পুলিশ প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েও কোন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এমন অভিযোগে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল নিরাপদ ও ছিনতাই ডাকাতি বন্ধসহ ১৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে। রবিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব নৈরাজ্যকর চিত্র তুলে ধরেন আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির চেয়ারম্যান সিরাজুল হক।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পদে পদে হয়রানি, চাঁদাবাজি, চুরি ডাকাতি, পথিমধ্যে পণ্য লুট, পরিবহন শ্রমিক খুন ইত্যাদি ঘটনায় পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা। পরিবহনকালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চালক- হেলপারকে হত্যা করে ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে এমএস রড, গার্মেন্টস পণ্য, তুলা, প্লাস্টিক দানা, তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। দুর্ঘটনা ঘটলে সকল দায়িত্ব পরিবহনের ওপর বর্তায় বিধায় যাবতীয় ক্ষতিপূরণও প্রদান করতে হয়। এতে পরিবহন মালিকরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। তবে এ কাজে জড়িত হয়েছে কতিপয় অর্থলিপ্সু দালাল ড্রাইভার চক্রও, যারা রাতারাতি টাকাওয়ালা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। এ চক্রের সঙ্গে কতিপয় শিল্প মালিক, বায়িং হাউস, অসাধু ব্যবসায়ী, তথাকথিত রাজনৈতিক নেতা এবং সন্ত্রাসী মাস্তানও জড়িত। ডাকাতি হওয়া পণ্য ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চাইতে গেলে উল্টো হয়রানির শিকার হন পরিবহন মালিকরা।
সমিতির চেয়ারম্যান বলেন, ক্ষতিপূরণ গুনতে গুনতে দেউলিয়া হতে যাচ্ছেন টান্সপোর্ট মালিকরা। আন্তঃজেলা মালামাল পরিবহন সংস্থা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল হক সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানান, একদিকে চলছে ডাকাতি ও ছিনতাই, অন্যদিকে বেড়েছে টায়ার টিউবসহ খুচরা যন্ত্রাংশের মূল্য বৃদ্ধি। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, অতিরিক্ত করারোপ, নতুন করে করের ওপর ২৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ ইত্যাদির কারণে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিকরা আজ দিশেহারা।
|