|
আশুলিয়ায় সোমবার থেকে সকল পোশাক কারখানা খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছে পোশাক তৈরি ও রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। রোববার সন্ধ্যায় বিজিএমইএ কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এই ঘোষণা দেন। এর আগে সাভারের টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সকল কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কারখানা মালিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই এর সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদি সহ সংগঠনের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘কোনো গুজবে কান না দিয়ে নিজে এবং অন্য কেউ যাতে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে না পারে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। একজন জীবিত মানুষকে মৃত বানিয়ে যে ধরনের ধ্বংসযগ্য চালানো হয়েছে সেটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।’’
তিনি বলেন, ‘‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি, মজুরি বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতিসহ নানা কারণে রফতানি মূল্য বাড়লেও লট কমছে আশঙ্কাজনক ভাবে। বাংলাদেশের পোষাকের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপ। কিন্তু এই মুহূর্তে ইউরোপে ঋণ সংকট, সরকারি ব্যয় সংকোচন প্রভৃতি কারণে এই অঞ্চলের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। আমাদের রফতানিতে এর প্রভাব পড়ছে ভয়ংকর ভাবে।’’
প্রসঙ্গত, এক কর্মকর্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডার কারণে হা-মীম গ্রুপের বাংলাবাজার এলাকার প্যাকেজিং কারখানা আর্টিস্টিক ডিজাইন লিমিটেডের এক শ্রমিককে পুলিশে দেয়ার পর শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হয়। শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়ক অবরোধ করে প্রায় অর্ধশত গাড়ি ভাঙচুর করে এবং আর্টিস্টিক ডিজাইনে হামলা চালায়।
এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদের একটি কারখানায় এক শ্রমিকের মৃত্যুর গুজবে শনি ও রোববার আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়।
|