তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহ করতে সরকারি নীতি আছে, তবে সে নীতি সবার ওপর সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সিগারেট ও বিড়ির ক্ষেত্রে শুল্ক করে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে! এ বৈষম্য দূর করতে হবে। সরকারি নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বৈষম্য থাকায় কেউ লাভবান হচ্ছে, আবারও কেউ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। এই ক্ষতিগ্রস্তরা সমাজেরই দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ। তাই আসন্ন বাজেটে এ বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত 'রাষ্ট্রীয় নীতি ও বিড়ি শ্রমিকদের দিনলিপি' শীর্ষক সেমিনারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু এসব কথা বলেছেন।
তবে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে যতই আইন থাকুক, কড়াকড়ি আরোপের ক্ষেত্রে দ্বিধায় রয়েছে সরকার। গতকাল সচিবালয়ে তামাক বিষয়ে এক বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, তামাক থেকেই সরকারের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আয় হয়। আবার আমরা তামাক দেশ থেকে বিদায় করারও চেষ্টা করছি। এই দুয়ের মধ্যে সমন্বয় টানতে আগামী অর্থবছরের বাজেট ছাপাখানায় পাঠানোর আগ পর্যন্ত কাজ করতে হবে।
সিরডাপে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভের আয়োজনে সেমিনারে বক্তারা বলেন, শুল্ক বৈষম্যের কারণে ১০ বছরে ২৫ লাখ বিড়ি শ্রমিক বেকার হয়েছেন। বন্ধ হয়েছে প্রায় ১০০ বিড়ি কারখানা। তামাকে শুল্কায়নের দিক দিয়ে রাষ্ট্রীয় নীতি বৈষম্যমূলক! আগামী বাজেটে বিড়ির ওপর শুল্ক না বাড়িয়ে সিগারেটের শুল্ক বাড়ানোর মাধ্যমে বিড়ি-সিগারেটের ক্ষেত্রে সরকারের নীতির বৈষম্য দূর করার দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা বলেন, শুল্ক বৈষম্যের কারণে বিড়ির বাজার দখল করেছে সিগারেট। ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট সিগারেট বিক্রি হয় চার হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। এটি আগের অর্থবছরের চেয়ে ৬৮৮ কোটি টাকা বেশি। অন্যদিকে ২০১০-১১ অর্থবছরে বিড়ি বিক্রি হয় চার হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৭৪ কোটি টাকা কম। ২০১১-১২ অর্থবছরেও সিগারেট বিক্রি বাড়ে ৯২১ কোটি টাকা, আর বিড়ি বিক্রি কমে ৪১৫ কোটি টাকার। শুল্ক বৈষম্যের কারণে বিড়ির তুলনায় সিগারেটে লাভের পরিমাণ তিন গুণ।
তাঁদের হিসাবে, ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য ১১ টাকা হলে ২৫ শলাকা হিসাবে এক প্যাকেট সিগারেটের মূল্য ২৭ টাকা ৫০ পয়সা। এতে সরকারি শুল্ক দিতে হয় ১৪ টাকা দুই পয়সা। এতে কম্পানি ও বিক্রেতা পায় ১৩ টাকা ৪৮ টাকা। আর প্রতি প্যাকেট বিড়ির বর্তমান বিক্রি মূল্য ছয় টাকা। সরকারি শুল্ক এক টাকা ২০ পয়সা। কম্পানি ও বিক্রেতা পাচ্ছে চার টাকা ৮০ পয়সা। সেমিনারে বিড়ির ওপর কর হ্রাস, সিগারেটের চতুর্থ স্তর বাতিল, ১০ শলাকার সিগারেট প্যাকেটের মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ এবং বিড়ি শিল্পে ৬ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রথা বাতিল করার দাবি জানানো হয়।
হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল। সেমিনারে বক্তব্য দেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম, বাংলাদেশ বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিজয় কৃঞ্চ দে, বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এক কে বাঙ্গালী, যশোরের বিড়ি শ্রমিক আলেয়া খাতুন।
|