বাংলাদেশে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা সোমবার ‘খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, “গত বছরের শেষ দিকে বিশ্বের জনসংখ্যা সাতশো কোটি ছাড়িয়েছে। আমার জীবদ্দশায় বিশ্বের জনসংখ্যা নয়শো কোটি ছাড়িয়ে যাবে। আর এই মানুষদের জন্য অবশ্যই খাদ্যের যোগান দিতে হবে।”
রাজধানীতে আয়োজিত এই কর্মশালার পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের ‘জাতীয় খাদ্য নীতি সক্ষমতা জোরদারকরণ কর্মসূচি’ এফএও, ইইউ, আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা।
তিনি বলেন, “আমেরিকার স্বার্থেই এবং বস্তুত এই বিশ্বের স্বার্থেই আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যে এই সকল মানুষ যেন খেতে পায়, তাদের জন্য যেন পর্যাপ্ত খাদ্য, পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা হয়।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এর জনগণের জন্য খাদ্য, পর্যাপ্ত খাদ্য, পুষ্টিকর খাদ্য যোগানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কাজ করার পথ বেছে নিয়েছে।”
তার মতে, যে সব দেশে প্রেসিডেন্ট ওবামার উচ্চাভিলাষী ‘ফিড দ্য ফিউচার’ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে তার মধ্যে একটি মূল দেশ হলো বাংলাদেশ। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে খাদ্যের উৎপাদন বাড়ানো এবং খাদ্যের পুষ্টিমান উন্নত করা। কেবলমাত্র ২০১১ সালেই আমেরিকা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির জন্য প্রায় নয় কোটি ডলার প্রদান করেছে। আর এর সবটাই করা হয়েছে বাংলাদেশের ‘কৃষি ও পুষ্টি বিষয়ক দেশীয় বিনিযোগ পরিকল্পনা’র সহায়তায়।
আমেরিকার এই রাষ্ট্রদূত বলেন,“খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করছে। এই জাতির দারিদ্র্যের হার ২০০৫ ছিল ৪০ শতাংশ, এখন সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৩১.৫ শতাংশে। বাংলাদেশ চলতি বছরে চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। অপুষ্টির শিকার এবং অপুষ্টির করণে শীর্ণকায় শিশুর জন্ম হারও কমতে শুরু করেছে। ধান উৎপাদনের বাইরে কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশ বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে যাতে করে খাদ্য মান সম্পূর্ণ হয়, খাদ্যে প্রয়োজনীয় আমিষ, ভিটামিন এবং খনিজ সহজলভ্য হয়। বাংলাদেশ জনগণের আয় বাড়ানোর-ও উপায় খুঁজছে যাতে করে তারা প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য কিনতে সমর্থ হয়। বাংলাদেশ খাদ্যে পুষ্টিমানও বাড়ানোর উপায় খুঁজছে যাতে করে সহজলভ্য খাদ্যদ্রব্যে সর্বাধিক পুষ্টিমান নিশ্চিত করা যায় এবং বিশেষ করে তা শিশু ও নারীদের জন্য।”
তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিতকরণ সফলতায় ‘জাতীয় খাদ্য নীতি সক্ষমতা জোরদারকরণ কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম। এই কর্মসূচি সরকারকে জাতীয় খাদ্য নীতির কার্যপরিকল্পনা এবং কান্ট্রি ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করতে সহায়তা করবে। এই কর্মসূচি খাদ্য নিরাপত্তার সকল উদ্যোগের ন্যায্যতা, জেন্ডার সংবেদনশীলতা, এবং দারিদ্র্য ও অপুষ্টি যথার্থভাবে হ্রাস করতে সহায়তা করবে। এই কর্মসূচী নীতি নির্ধারক/নীতি বাস্তবায়নকারী, গবেষক এবং সুশীল সমাজের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ তৈরী করবে।”
অনুষ্ঠানে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, খাদ্যসচিব বরুণ দেব মিত্র, বাংলাদেশে ‘এফএও’-র প্রতিনিধি ডমিনিক বার্জিওন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এবং কর্পোরেশন প্রধান মিল্কো ভ্যান গুল, রোম ও ব্যাংকক থেকে আগত ‘এফএও’-র প্রতিনিধি, সরকারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
|