 |
সমাবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। নবীন গ্র্যাজুয়েটরা এ সত্য হৃদয়ে ধারণ করে সমাবর্তন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয় জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যথাযথ অবদান রাখবে, রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জিল্লুর রহমান শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্নাতকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ছাত্র সমাজ জাতির চালিকাশক্তি, স্বাধীনতার ইতিহাসে ছাত্র সমাজের রয়েছে গৌরবময় অবদান। ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ’৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান, ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে বিপুল অবদান রেখেছেন। কিন্তু ছাত্রসমাজের যে অতীত গৌরব তা আগের মত আর প্রতিফলিত হয় না। ব্যক্তিস্বার্থে বা ক্ষুদ্র দলীয় স্বার্থে ছাত্র সংগঠনগুলো কোন্দলে জড়িয়ে পড়ছে। এটা জাতি আশা করে না। আমরা আশা করব ছাত্রসমাজ অতীত গৌরবকে ধারণ করে জাতি গঠনমূলক কাজে অবদান রাখবে।
তিনি বলেন, দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পাদপিঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম জাতি গভীর আগ্রহ সহকারে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। তাই এখানে নিরবিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
সকাল সাড়ে ১১টায় ও রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে কার্জন হল থেকে শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা। শোভাযাত্রাটি খেলার মাঠে হাজির হলে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি এতে সভাপতিত্ব করেন। জাতীয় সংগীত পরিবেশের পর সমাবর্তন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি।
এবার সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক প্যাসকেল লামি। তাকে ডক্টর অব লজ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে পরিচিতি পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
রাষ্ট্রপতি প্যাসকেল লামির কাছে ডক্টর অব লজ ডিগ্রির পত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
এরপর পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত ১০০ জন ও এমফিল ডিগ্রিপ্রাপ্ত ৫৩ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। তারপর স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী-গবেষকদের হাতে পদক তুলে দেন রাষ্ট্রপতি।
সমাবর্তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের অন্তর্ভুক্ত বিভাগ ও ইনস্টিটিউট ছাড়াও এর অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটের ১৬ হাজার ৬৭৩ জনকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, ১০০ জনকে পিএইচডি এবং ৫৩ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মেধাবী ফলাফলের স্বীকৃতি হিসাবে ৪১ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় ৪৩টি স্বর্ণপদক।
|