অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আগামী ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন মিলিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ৯ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন। বাজেট বক্তৃতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য এই অর্থের প্রস্তাব দেন।

তিনি বাজেট বক্তৃতায় বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে সকল উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় এবং সকল জেলা হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ২৫১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায়, ১৬টি জেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় এবং ৮টি জেলা হাসপতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ হাজার ৫৫১ জন চিকিৎসক নিয়োগ প্রদানসহ ৫টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপাত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ১:৩:৫-এ উন্নীত করতে আমরা নার্স ও প্যারামেডিক্সের সংখ্যা বৃদ্ধিরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে ৫টি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি স্থাপিত হয়েছে এবং আরো ১০টি নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫টি নতুন নার্সিং কলেজ নির্মাণ এবং ১৫টি নার্সিট ইনস্টিটিউটকে নার্সিং কলেজে উন্নীতকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গত তিন বছরে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৬ হাজার ৩৯১ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ৩৭০ জন টেকনোলজিস্ট, ৬০৫ জন নার্স ও ৮৫৬ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শকা।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে আমরা ১৩ হাজার ৫শ’টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের প্রতিশ্র“তি দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৪০৯টি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। এসব ক্লিনিকে গত তিন বছরে সেবা নিয়েছেন মোট ৭ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ। অবশিষ্ট ২ হাজার ৯১টি ক্লিনিক ২-১২-১৩ অর্থবছরের মধ্যে নির্মাণ ও চালু করা সম্ভব হবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ছয়টি সিটি করপোরেশন এবং ৫টি পৌরসভার ২৭টি নগর মাতৃসদন, ১৬৭টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৬৫৬টি স্যাটেলাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে দরিদ্র নগরবাসীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে। নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রদত্ত সেবাসমূহের মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ বিনামূল্যে দেয়া হয়। পাশাপাশি আমরা বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতিকেও জনপ্রিয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন ও জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ই-হেলথ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ৪৮২টি হাসপাতালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ৮০০টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে। ৮টি হাসপাতালে টেলিমেডিসিন সুবিধা চালু করা হয়েছে- যার মাধ্যমে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে সক্ষম হচ্ছেন।

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর সময়সূচি, শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়ানো এবং গর্ভধারণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জনগণকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে তথ্য-প্রযুক্তির এই সফল প্রয়োগের স্বীকৃতি মিলেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রীকে ‘ডিজিটাল হেলথ ফর ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ পুরস্কার প্রদান করেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার পুষ্টির ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখনো পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে ৫ বছরের নিচে দেশের ৩৬ শতাংশ শিশুই কম ওজনসম্পন্ন। এ সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্য জাতীয় পুষ্টি সেবা কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

Post filed under বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>