২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্ক হারের পরিবর্তনের ফলে যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে সেগুলো হলো-
আমদানি করা মোটরসাইকেল ও ফ্রিজ : এ দুটি পণ্য দেশে তৈরির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সব সুবিধা বহাল রেখে আমদানির ক্ষেত্রে কিছুটা কর কমানো হয়েছে। ফলে আমদানি করা মোটরসাইকেল ও ফ্রিজের দাম কিছুটা কমতে পারে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘দেশের বৃহত্তর চাহিদা এখনো আমদানির মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে বলে আমদানি পণ্যের দাম যুক্তিসংগত করার উদ্দেশ্যে সদ্য আরোপিত অতিরিক্ত ২০ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার করা হচ্ছে।’
সানফ্লাওয়ার অয়েল : ভোজ্য তেলের মধ্যে সয়াবিন, পাম ও পাম অলিনের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বর্তমান অবস্থার মতো ১০ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সুবিধা ২০১৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে ভ্যাট নিবন্ধন নেই এমন কম্পানির অপরিশোধিত পাম তেল আমদানির ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ভোজ্য তেলের মধ্যে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে থাকা সান ফ্লাওয়ার অয়েলের আমদানি শুল্ক ও মূসক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এ পণ্যটির দাম কমতে পারে। সান ফ্লাওয়ার অয়েলের আমদানি শুল্ক ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ও মূসক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে মোট শুল্ক ও কর ৩৮ শতাংশ থেকে কমে ১৬ শতাংশ হবে।
মা ও শিশুর পুষ্টি সাপ্লিমেন্ট : গর্ভবতী ও বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের পুষ্টি সাপ্লিমেন্টের ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে এগুলোর দাম কমতে পারে।
গণপরিবহনের ব্রেকসু ও ব্রেকপ্যাড : গণপরিবহনের ব্রেকসু ও ব্রেকপ্যাডের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এর মোট অগ্রিম আয়কর ও ভ্যাট ৫৯ শতাংশ থেকে কমে ৩৮ শতাংশ হলো। এ ছাড়া গণপরিবহনের সেফটি গ্লাসের ওপর থেকেও একই হারে কর ভ্যাট কমানো হয়েছে।
আইটি খাতের কিছু পণ্য: আইটি খাতের কিছু পণ্য যেমন মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য।
অন্যান্য : কৃষিকাজে ব্যবহৃত জৈব সার, গুটি ইউরিয়া দেওয়ার যন্ত্র, চালের কুঁড়ার তেল, ১০০ টাকা দামের পাদুকা ও হাওয়াই চপ্পলের ওপর থেকে মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমানোর সুযোগ রয়েছে।