প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান বলেছেন, বাজেটে সাধারণ পিছিয়ে পড়া মানুষকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, এবারের বাজেটে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে যথেষ্ট বরাদ্দ রয়েছে। বিশেষ করে বাজেটে সাধারণ পিছিয়ে পড়া মানুষকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাজেটে অর্থ বরাদ্দ কোন বিষয় নয়, বাজেটের সীমানা কত বড় তাও বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে কতটুকু কাজ হয়েছে, কতটা প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।
এবারের বাজেটে মানব সক্ষমতা বাড়াতে যথেষ্ট বরাদ্দ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সক্ষমতা না বাড়ালে দেশের অগ্রগতি হবে না। তিনি বলেন, বাজেটে কর্মসৃজনের ওপরে জোর দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে অবকাঠামো খাতে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীতেও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু তারপরও বাজেট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকবে। এই সমালোচনা নিয়েই সরকারকে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষিতে বাজেট বরাদ্দ কিছুটা কমলেও ভর্তুকি বেড়েছে। এজন্য সরকারকে কৃষি খাতে উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। বাজেটে বিদ্যুত খাতে ভাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এ খাতে সবচেয়ে বেশি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে হবে। দেশকে উৎপাদন সক্ষম হতে হবে। তিনি বলেন, অনেক প্রকল্পই বাস্তবায়ন হয় না বা আলোর মুখ দেখে না। প্রথমেই জোর দিতে হবে প্রকল্প বাস্তবায়নে।
খলীকুজ্জমান বলেন, বাজেটে সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। সরকারকে ব্যাংক ঋণ আরও কমিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বৈদেশিক অর্থ ছাড়ের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে ভাবার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, সব ক্ষেত্রেই অপচয় কমাতে হবে। পাশাপাশি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, শুনেছি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) এবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ খাতে সরকারকে আরও বেশি নজর দিতে হবে। সাবেক এ অর্থনীতিবিদ বলেন, এবারের বাজেটে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের বিষয়টি এসেছে। এ নীতি কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না, বাস্তবায়ন করতে হবে। এখন বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মত দেন তিনি।